নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী সতিহাটে প্রতি পিচ কলা ২ টাকা, দুশ্চিন্তায় কৃষক
Byনজিপুর নিউজ· Author
1 min read

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী সতিহাটের কলার বাজারে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। হাটে সাগর, মানিক, সবরি ও চিনি চম্পাসহ বিভিন্ন জাতের কলার সরবরাহ বাড়লেও সপ্তাহ ব্যবধানে কমেছে দাম। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কলাচাষিরা।
চাষিদের অভিযোগ, বাজারে কলার সরবরাহ বাড়ার অজুহাতে বেপারীরা একজোট হয়ে দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। তাদের দাবি, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কাঁদি কলার দাম প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলা সতিহাটে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও বেপারীরা কলা কিনতে আসেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সপ্তাহের তিন দিনে এ হাটে প্রায় কোটি টাকার কলা ও কলাপাতার বেচাকেনা হয়।
হাটে বর্তমানে চিনি চম্পা জাতের কলা প্রতি পিস ১ টাকা বা তারও কম দামে, সাগর জাতের কলা প্রায় ২ টাকা এবং মানিক জাতের কলা প্রকারভেদে ২ থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে চাষিরা সারি সারি কলার কাঁদি নিয়ে হাটে আসছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাটে কলার সরবরাহও বাড়ছে। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক চাষির মধ্যেই হতাশা দেখা গেছে।
তবে চাষিদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন বেপারীরা। তাদের দাবি, বাজারে হঠাৎ করে কলার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হয়েছে। ফলে বাজার পরিস্থিতির কারণে তুলনামূলক কম দামে কলা কিনতে হচ্ছে তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সতিহাটের অবকাঠামোগত সমস্যাও দীর্ঘদিনের। সামান্য বৃষ্টিতেই হাটের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে কলা নিয়ে আসা চাষি, পাইকার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চাষিদের দাবি, কলার বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হাটের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
Author ·
Related Stories
Related Stories
First published 4 October 2026. Spotted an error? Read our corrections policy.



